পাঁপড়

A Believer
By -
0
আপনার মুচমুচে পাঁপড় খেতে কেমন লাগে? ধরুন সবে লাঞ্চটা সেরে উঠেছেন, পেটটাও ভর্তি। কিন্তু সামনে যদি পাঁপড় থাকে, কেমন হয় ব্যাপারটা? আমি হলে তো খপাত করে তুলে নিয়ে চিবোতাম। বেশ লাগে খেতে। খাওয়াও হলো অথচ পেটটা আর ফুললো না।
কিংবা যদি বলা হয় মাছ খেতে ভালো লাগে? আরো ভালো করে বললে “সর্ষে ইলিশ” কেমন লাগে? কিংবা “মৌরোলা মাছের ঝাল”? কিংবা “শোল মাছের টক”? আর জিজ্ঞেসই বা করছি কেন । বাঙালি হয়ে না ভালো লেগে যাবে কোথায়? কেমন লাগে জামাইষষ্ঠিতে পাত পেড়ে খেতে? ইলিশ মাছ, পাঁঠার মাংস, মিষ্টি, দই, পাঁপড়। সব জিভে জল আনা ব্যাপার না? কবে যে আমি জামাই হব!
এখানে এসে আপনি প্রশ্ন করতে পারেন আমি হঠাৎ খাওয়া দাওয়া নিয়ে পড়েছি কেন। আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে এইসব খেলে যে প্রশ্নটা করা হয়েছে তার উত্তর বুঝতে সুবিধে হবে। যেমন ধরুন আমি যদি বলি “প্রোজেক্ট” হচ্ছে অনেকটা “পাঁপড়” এর মত। বিশ্বাস হলো না? না হবারই কথা। আসলে পাঁপড় ভাজা হলো খুবই সহজ। শুধু দোকান থেকে প্যাকেটটা কিনে আনলেই হলো। আর তেল তো আছেই। উনুন জ্বেলে কড়াইতে তেলটা গরম করতেই যা সময় যায়। তারপর তো খেতে এক মিনিট ও যাবে না। প্রোজেক্ট অনেকটা এইরকম (তবে একদম সহজ তা বলছি না)। তিন-চারমাস করলেন। অনেককিছু শিখলেন যা পরে কাজে লাগবে। কিন্তু ওইটুকু সময়ে না আপনি “কিছুই জানি না” থাকলেন না আপনি বিশাল “এক্সপার্ট” বনে গেলেন। কিন্তু জেনে গেলেন কিভাবে এক্সপার্ট হতে হয় বা বুঝে গেলেন আপনার দ্বারা হবে কিনা। পাঁপড় টা ভেজে নিশ্চয়ই একটু মনোবল বাড়লো? জীবনে প্রথমবার রান্নাঘরে গেলেন কিনা। চিন্তা করার দরকার নেই। তেল যখন গরম করতে পেরেছেন তখন মাছ ভাজতে আর দেরি নেই। শুধু মাছটা কিনে এনে নুন, হলুদ মাখিয়ে কড়াইতে ভেজে নিলেই হয়। সমস্যায় পড়ে গেলেন? মাছের ঝোল রাঁধতে হবে? আরে না না টেনশানের কিছু নেই। ঠিকঠাক সময়ে পরিমাণমতো নুন, লঙ্কা, আদা, হলুদ, জিরে, ধনে ইত্যাদি দিলেই হলো। টেষ্ট হচ্ছে না? পাঁচ দশবার রান্না করুন, হয়ে যাবে। যাইহোক রান্না ছাড়ুন, এবার একটু রিসার্চ পেপার সম্পর্কে বলি। এটি অনেকটা ঐরকম। সহজে হতে চায় না। নিজের মেধা, শ্রম, সময় ইত্যাদি দিয়ে একে কাবু করতে হয়। ধরুন কোনো নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা নিয়ে পড়লেন- “গাছের পাতা কেন সবুজ?” অনেক খেটেখুটে পড়াশোনা করে, সময় ব্যয় করে, মাথা খাটিয়ে বের করলেন “গাছের পাতায়ক্লোরোফিল থাকে, তাই পাতার রং সবুজ”। ব্যস, আপনার রিসার্চ পেপার রেডি। বাহ্ মাছের তরকারি রাঁধতে রাঁধতে তো পাকা রাঁধুনি হয়ে গেলেন! কি বললেন, বিয়েটা করে ফেললেন? আপনার শাশুড়ি নিশ্চয় আপনাকে জামাই হিসেবে পেয়ে দারুন খুশি? এবার জামাইষষ্ঠীতে যাচ্ছেন আপনি? খুব ভালো কথা। ও বাবা। কত তরকারি। কোনটা ছেড়ে কোনটা খাবেন? ইলিশের নরমাল ঝোল হয়েছে? পছন্দ হয়নি? রান্না তো জানেন, শাশুড়িকে নাহয় সর্ষে ইলিশটা শিখিয়ে দিলেন। কিংবা বলে দিলেন পাঁঠার মাংস কষাতে একটু ধনেপাতা দিতে, স্বাদটা বাড়ানোর জন্য। মিষ্টিটা বাসি লাগছে? দেখেছো দোকানদারের কান্ড! শশুরমশাই তো মিষ্টি চেখেই নিয়ে এলো,কই ধরতে পারেনি তো! আপনি তো মশাই লেজেন্ড। শুধু চেখে বলে দিলেন কোনটা ভালো কোনটা খারাপ, কি পড়েনি তরকারিতে, কি দিলে বা না দিলে তরকারিটা আরো ভালো হতো ইত্যাদি ইত্যাদি। ব্যস হয়ে গেল। আপনার থিসিস পুরো তৈরি। বোঝা গেল না? আর একটু সহজ করে বলি। আপনি কোন নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে ধরুন গবেষণা করছেন (এক্ষেত্রে রান্না)। বিষয়টার অনেক গভীরে গিয়ে বুঝলেন, গাছের পাতা কেন সবুজ, ক্লোরোফিল কোথা থেকে তৈরি হয়, কি দরকার, সবুজ না হলে কি হতো ইত্যাদি ইত্যাদি। তারপর অনেকদিন পর আপনি “থিসিস” বলে একটা বস্তু লিখলেন, যাতে এসবের কথা উল্লেখ করলেন, ব্যাখ্যা দিলেন, অন্যরা আর কি করতে পারে সে ব্যাপারে খানিক ধারণা দেবার চেষ্টা করলেন। কিংবা আর নতুন কি সমস্যার মুখোমুখি হলেন যা সমাধান করা দরকার বলে আপনার মনে হয়, সেই সবকিছু মিশিয়ে একটা মনোগ্রাহী লেখা লিখলেন যাতে করে আপনি (রান্নার শেফ হিসেবে) ডিগ্রী সার্টিফিকেট পেতে পারেন। ব্যস, এইতো আপনার থিসিস রেডি। একটু বেশি লিখে ফেললাম? দুঃখিত, যদি সময় নষ্ট করে থাকি। ধন্যবাদান্তে,

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)